তীব্র গরমের পর কুড়িগ্রামে বৃষ্টির ছোঁয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস
তীব্র গরমের পর কুড়িগ্রামে বৃষ্টির ছোঁয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কয়েকদিনের দমবন্ধ করা গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ার পর কুড়িগ্রামের আকাশে নেমে এলো স্বস্তির বারিধারা। প্রকৃতির এই আকস্মিক পরিবর্তনে যেন ক্লান্ত জনজীবনে ফিরে এলো প্রশান্তির ছোঁয়া।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। ঝরঝরে সেই বৃষ্টিধারায় ধুয়ে যায় তাপপ্রবাহের তীব্রতা, কমতে থাকে তাপমাত্রা, আর পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এক ধরনের স্বস্তির আবেশ।
সকালের আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও দুপুর পর্যন্ত তীব্র রোদ আর অস্বস্তিকর গরমে নাকাল ছিল জনজীবন। প্রখর রোদের তাপে কোথাও কোথাও সড়কের পিচ নরম হয়ে যাওয়ার মতো চিত্রও দেখা গেছে, যা গরমের তীব্রতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
বৃষ্টির পর প্রকৃতি যেন নতুন রূপে ধরা দেয়। ধুলোমলিন পরিবেশ স্নিগ্ধতায় ভরে ওঠে, বাতাসে মিশে যায় প্রশান্তির ছোঁয়া। কয়েকদিনের দিনের দহন শেষে এই বৃষ্টি হয়ে ওঠে স্বস্তির এক নির্মল বার্তা।
বৃষ্টির পর কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার শহরের কলেজ মোড় এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম-এর সঙ্গে। তিনি বলেন, “চার-পাঁচ দিন ধরে গরমে রিকশা চালানো খুব কষ্ট হচ্ছিল। আজ বৃষ্টি হওয়ায় একটু ভালো লাগতেছে, গরমের মধ্যে রিকশা চালালে প্রচুর শরীর ঘেমে যায়।”
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার শহরের জিয়া বাজারে আসা ক্রেতা মোছাঃ শাহিদা বেগম জানান, “রোদে বের হওয়াই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টির পর মনে হচ্ছে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র রায় বলেন, গত কয়েকদিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। তিনি আরও জানান, “আগামী ৫ জুন পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমে আসতে পারে।”
এদিকে বৃষ্টির কারণে শহরের কিছু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার ফলে সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে হাঁটাচলায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় ও শহরে আসা মানুষজন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, “বৃষ্টি ভালো লাগছে, কিন্তু পানি জমে থাকায় চলাফেরা একটু সমস্যা হচ্ছে।”
তবে সার্বিকভাবে দীর্ঘ গরমের পর এই বৃষ্টিকে স্বস্তির হিসেবে দেখছেন জেলার সাধারণ মানুষ।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স